মুহাম্মাদ সঃ ভালোবাসা দিয়ে জাহেলি যুগের শতহাজার পাষাণ হৃদয়কে জয় করেছিলেন; শায়েখ আরাফাত

কে এই শিশু মুহাম্মাদ
আজ থেকে সাড়ে চৌদ্দ শত বছর আগের কথা,
তুমি কি শুনবে?
শোনো! তখন পৃথিবীতে মানবতার মুমূর্ষু অবস্থা চলছিল,
মানবতাকে হাতছানি দিয়ে কাছে ডেকে নিয়ে ভালো করবে এমন কোনো মানুষ পৃথিবীর বুকে ছিলনা। হাতেগোনা যে কয়জন ছিল তারা অনেক আগেই বিদায় নিয়েছেন। মানুষ তখন মনুষ্যত্ব হারিয়ে পশুত্বে রুপান্তরিত হয়ে গিয়েছিল। তখনই মানবতাকে পথ দেখাতে দরকার হয়ে পড়েছিল কোনো এক মহামানবের আবির্ভাব। কোনো মানুষ তো আর হটাৎ করে আসমান থেকে নাযিল হয়ে আসেনা, তাকে সৃষ্টির নিয়ম অনুযায়ী পৃথিবীতে আসতে হয়। মায়ের পেটে কিছুকাল অবস্থান করে তাকে পৃথিবীর বুকে নবজাতক শিশু হয়ে আগমন করতে হয়। তেমনি ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে এক মানব শিশুর জন্ম হলো। দেখতে শিশুটি তোমার আমার মত মনে হলে বাস্তবে শিশুটি অদ্বিতীয় ও ভিন্ন।

মায়ের গর্ভ থেকে পৃথিবীতে আগমন করতেই পৃথিববীবাসী অন্যরকম এক আলোর ঝলক দেখতে পান। সেই ছোট্ট শিশুর বাবার নাম ছিল আব্দুল্লাহ। মায়ের নাম ছিল আমেনা। শিশুটির জন্মের আগেই তার বাবা পরপারে পাড়ি জমান। দেখতে পারেনি নিজের একমাত্র কলিজার টুকরা সন্তানের মুখ। ওহে! তুমি কি জানবে কে সেই ছোট্ট শিশুটি?
শিশুটি আর কেউ নয়, সে হলো মুহাম্মাদ। যে শিশুটি পৃথিবীবাসীর জন্য রহমত ও নাজাতের বার্তা বহন করেছে।
শিশুটি বড় হয়ে নবী হয়েছেন। নবী হওয়ার পর আর কেউ মুহাম্মাদ বলেনা। এখন সবাই বলে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আরে! শুধু নবীই নয় সর্বশেষ নবী হওয়ার ভাগ্য শিশু মুহাম্মাদের তাকদীরেই লিখা ছিল। তিনি হলেন রহমাতুল লিল আলামীন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, শাফীউল মুযনাবীন, সর্বপরি আল্লাহর প্রিয় বন্ধু হাবীবুল্লাহ।


তিনি শুধু একজন নবীই ছিলেননা তিনি ছিলেন পৃথিবীবাসীর জন্য রহমত। তার ছোঁয়া পেয়ে ধন্য হলো লক্ষ লক্ষ মানুষ।
সাহারা মরুভূমিতে ফুটিয়েছ শান্তির ফুল, পথ হারা মানুষের ভাঙ্গিয়েছ শতকোটি ভুল
ওহে শিশুরা! তোমরাও শিশু মুহাম্মাদের পথ অবলম্বন করো। তোমরাও ধন্য হবে।

লেখক শায়েখ আরাফাত

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin
Share on email